Skip to main content

মানুষের চাহিদার প্রকারভেদ – ইবনে খালদুন

আধুনিক অর্থনীতিতে বলা হয়, মানুষের চাহিদা অসীম।

কিন্তু ইবনে খালদুন মানুষের চাহিদাকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন।

১) প্রয়োজনীয় চাহিদা (ضروري)
২) সুবিধাজনক চাহিদা (الحاجي) এবং
৩) বিলাসবহুল চাহিদা (الكمالي)

উদাহরণ – ১
পানি প্রয়োজনীয় চাহিদা,
শরবত সুবিধাজনক চাহিদা এবং
কোল্ড ড্রিংকস বিলাসবহুল চাহিদা।

উদাহরণ – ২
ট্রেনে তিন ধরণের সিট থাকে।
শোভন সিট হলো প্রয়োজনীয় চাহিদা,
চেয়ার হলো সুবিধাজনক চাহিদা, এবং
এসি হলো বিলাসবহুল চাহিদা।

আমরা কেউ কেউ যখন বিলাসবহুল চাহিদা পূরণে ব্যস্ত থাকি,
তখন কেউ কেউ নিজেদের প্রয়োজনীয় চাহিদাও পূরণ করতে পারে না।

মানুষের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ হলে তারা সুবিধাজনক চাহিদার দিকে নজর দেয়, এবং
সুবিধাজনক চাহিদা পূরণ হলে বিলাসবহুল চাহিদার দিকে নজর দেয়।

এভাবে মানুষ অসীম চাহিদার মুখাপেক্ষী হয়ে যায়, যা মানুষকে প্রকৃত সুখ থেকে দূরে রাখে।
অথচ, প্রকৃত সুখী মানুষ তারাই যারা তাদের চাহিদাকে সীমিত রাখতে পারে।
(সূত্র: আল কোর’আন, সূরা ইবরাহীম – ৭, সূরা তাকাছুর – ১, ২)

-clctd

Comments

Popular posts from this blog

জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাঝে পার্থক্য:

জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মাঝে পার্থক্য: জ্ঞান হলো এটা জানা যে, “সিগারেটের অনেক ক্ষতি রয়েছে”। প্রজ্ঞা হলো, “সিগারেট থেকে নিজেকে দূরে রাখতে সমর্থ হওয়া”। অর্থাৎ, জ্ঞান হলো খারাপ কাজের কুফল সম্পর্কে জানা। প্রজ্ঞা হলো খারাপ কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা। একজন আলিম ও দার্শনিক অনেক কিছুই জানতে পারেন, কিন্তু তিনি মুত্তাকী ও প্রজ্ঞাবান নাও হতে পারেন। যদিও মুত্তাকী হবার প্রথম শর্ত আলিম হওয়া। দুই জ্ঞান ও বিবেক দুটি ভিন্ন বিষয়। একজন মানুষ অনেক জ্ঞানী হয়েও বিবেকহীন হতে পারে। জ্ঞান হলো ব্যাংকে জমানো টাকার মতো মস্তিষ্কে জমানো কিছু তথ্যের নাম। কিন্তু, বিবেক হলো যথোপযুক্ত স্থানে যথোপযুক্ত জ্ঞানকে ব্যবহার করার কৌশলের নাম। অনেকের ব্যাংকে অনেক টাকা থাকা সত্ত্বেও যেমন কাজের সময়ে সেই টাকার ব্যবহার করতে জানে না, তেমনি অনেকের মস্তিষ্কে অনেক জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও বিবেকের অভাবে সঠিক সময়ে সেই জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারে না। -clctd

জ্ঞান অর্জনের জন্যে বই পড়ার চেয়ে চিন্তা করা বেশি প্রয়োজন।

জ্ঞান অর্জনের জন্যে বই পড়ার চেয়ে চিন্তা করা বেশি প্রয়োজন। একবার ইবনে আব্বাস (রা)-কে প্রশ্ন করা হলো, আপনি এতো জ্ঞান কিভাবে অর্জন করলেন? তিনি বলেন, প্রশ্ন করতে পারা একটি মুখ ও চিন্তা করতে পারা একটি হৃদয়ের মাধ্যমে। জ্ঞান অর্জনের উপায় হলো – ১) নিজের মধ্যে জাগ্রত হওয়া প্রশ্নগুলোকে ভালোভাবে গুরুত্ব দেয়া। ২) নিজে নিজে সে প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা। ৩) লজ্জা ও অহংকার দূর করে অভিজ্ঞদের কাছে প্রশ্নের উত্তর জিজ্ঞেস করা। ৪) এবং প্রয়োজনে বইয়ের সাহায্য নেয়া। বই চিন্তা করার প্রধান হাতিয়ার নয়। আধুনিক সময়ে বই ছাড়াও বিভিন্নভাবে চিন্তা চর্চা করা যায়। সুতরাং, যারা বই পড়ে না, তারা আলোকিত হতে পারে না, এমন ধারণা ভুল। জালাল উদ্দিন রুমি বা তুরস্কের ইউনুস এমরের মতো সূফীরা জীবনের শুরুতে প্রচুর বই পড়তেন। তারা মনে করতেন, কেবল বই পড়লেই বুঝি আলোকিত মানুষ হওয়া যায়। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের উস্তাদগণ তাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, পৃথিবীটাই হলো আসল বই। কেবল কাগজের বই পড়ে পৃথিবীকে ভালোভাবে বুঝা যায় না, এবং আলোকিত মানুষও হওয়া যায় না। আলোকিত মানুষ হতে হলে আসল বই অর্থাৎ নিজেকে ও পৃথিবীকে পড়তে হবে। বিশ্বসাহিত্যে...